Stocks

কাজ না করেই কোটিপতি: কর্পোরেট দুনিয়ার গোপন খেলা আর CEO-দের বেতন রহস্য

5 min read
কাজ না করেই কোটিপতি: কর্পোরেট দুনিয়ার গোপন খেলা আর CEO-দের বেতন রহস্য

আমাদের দেশে চাকরির বাজারে সামান্য বেতন বৃদ্ধির জন্য যেখানে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, সেখানে বড় বড় কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের (CEO) বেতন কেন আকাশচুম্বী? অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোম্পানি লোকসানে থাকলেও তাদের বেতন বা বোনাস কমছে না। ব্যাপারটা কি শুধুই যোগ্যতা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো কাঠামোগত কারসাজি?

লুসিয়ান বেবচুক এবং জেসি ফাইড-এর বিখ্যাত বই "Pay Without Performance" এই বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছে। বইটির মূল পয়েন্টগুলো নিচে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:

১. বোর্ডের সাথে অভ্যন্তরীণ সমঝোতা একটি কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ড অফ ডিরেক্টরসদের কাজ হলো সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং CEO-র বেতন নির্ধারণ করা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বোর্ড মেম্বাররা প্রায়ই CEO-র ঘনিষ্ঠ হন। অনেক সময় CEO নিজেই বোর্ড মেম্বার নির্বাচনে ভূমিকা রাখেন। ফলে তারা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ দেখার চেয়ে CEO-কে খুশি রাখতেই বেশি মনোযোগী থাকেন। একে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সিন্ডিকেট বলা যেতে পারে।

২. লুকানো বেতন বা ক্যামোফ্লেজ পে যদি কোনো কোম্পানি সরাসরি একজন অযোগ্য CEO-কে বিশাল অংকের টাকা দেয়, তবে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে। এই ক্ষোভ এড়াতে কোম্পানিগুলো বেতনের টাকা সরাসরি না দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে লুকিয়ে রাখে। যেমন:

গোল্ডেন প্যারাশুট: এটি এমন একটি চুক্তি যেখানে CEO যদি খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য চাকরি হারান, তবুও তাকে বিদায় নেওয়ার সময় মোটা অংকের টাকা দিতে কোম্পানি বাধ্য থাকে।

অন্যান্য সুবিধা: অবসরের পর আজীবন ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহারের সুযোগ, বিশাল অংকের পেনশন বা বিলাসবহুল আবাসন সুবিধা, যা সাধারণ মানুষের নজর এড়িয়ে যায়।

৩. পারফরম্যান্স নয় বরং ভাগ্যের পুরস্কার বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনেক সময় CEO-রা তাদের ব্যক্তিগত দক্ষতার জন্য নয়, বরং বাজারের অনুকূল পরিস্থিতির কারণে বোনাস পান। উদাহরণস্বরূপ, যদি বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার কারণে একটি তেল কোম্পানির লাভ হয়, তবে তার কৃতিত্ব CEO-কে দেওয়া হয় এবং তাকে বিশাল বোনাস দেওয়া হয়। অথচ প্রকৃত নিয়ম হওয়া উচিত ছিল তার প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোর তুলনায় সে কতটা ভালো করেছে তার ভিত্তিতে বিচার করা।

৪. সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব এই পদ্ধতিটি শুধু বড়লোকদের খেলা নয়, এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়ে। যখন একজন কর্মকর্তা কাজ না করেই বিপুল অর্থ সরিয়ে নেন, তখন সেই টাকাটি মূলত কোম্পানির তহবিল বা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ থেকেই যায়। এটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা কমিয়ে দেয় এবং সাধারণ কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য বাড়িয়ে তোলে।

শেষ কথা "Pay Without Performance" বইটি আমাদের দেখায় যে, বর্তমান কর্পোরেট কাঠামোতে অনেক সময় মেধার চেয়ে প্রভাব এবং কৌশলের জয়জয়কার বেশি। বাজারের স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন জরুরি।

Share this post